ভালো থেকো বিন্দু | Arosh Khan | Tania Brishty | Shakal Ahmed | New Bangla Nato

Bhalo Theko Bindu | ভালো থেকো বিন্দু | Arosh Khan | Tania Brishty | New Bangla Natok

Bhalo Theko Bindu | Arosh Khan | Tania Brishty ভালো থেকো বিন্দু | New Bangla Natok

ভূমিকা: দুই মেরুর দুই বাসিন্দা ও এক অদ্ভুত voisinage

শহরের কোলাহলে কিছু মানুষ খুঁজে ফেরে নির্জনতা, আবার কেউ সেই কোলাহলের মাঝেই খুঁজে নেয় জীবনের ছন্দ। আয়ান (আরশ খান) এবং বিন্দু (তানিয়া বৃষ্টি) ছিল ঠিক এমনই দুই বিপরীত মেরুর বাসিন্দা। আয়ান, একজন সফল আর্কিটেক্ট, যার জীবনে সবকিছু চলে ঘড়ির কাঁটা মেপে। তার পৃথিবীটা ডিজাইন, পরিমাপ আর শৃঙ্খলার এক নিখুঁত জ্যামিতিক বাক্স। অন্যদিকে, বিন্দু এক উড়নচণ্ডী প্রজাপতি। একজন চিত্রশিল্পী, যার दुनिया রঙ, তুলি আর কল্পনার ক্যানভাসে আঁকা। "ভালো থেকো বিন্দু" নাটকটি এই দুই ভিন্ন মানুষের পাশাপাশি ফ্ল্যাটে বসবাস এবং তাদের টক ঝাল মিষ্টি সম্পর্কের এক আস্থা যা দর্শকদের এক নির্মল ভালোবাসার জগতে নিয়ে যাবে। এই গল্প শুধু দুটি মানুষের কাছাকাছি আসার নয়, বরং এটি একে অপরের জগৎকে সম্মান করে, নিজের অপূর্ণতাকে অন্যের পূর্ণতা দিয়ে ভরিয়ে তোলার এক অনবদ্য প্রচেষ্টা।

প্রথম পর্ব: দেয়ালের এপার-ওপার ও অদ্ভুতুরে আলাপ

গল্পের শুরুটা হয় আয়ানের নতুন ফ্ল্যাটে ওঠার মধ্যে দিয়ে। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন তার, শহরের এক প্রান্তে শান্ত পরিবেশে নিজের মতো করে একটি স্টুডিও তৈরি করবে। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন প্রথম দিনেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয় পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা বিন্দুর কারণে। গভীর রাতে যখন আয়ান তার নতুন প্রজেক্টের নকশা নিয়ে ব্যস্ত, তখন পাশের ফ্ল্যাট থেকে ভেসে আসে হাই ভলিউমে গান আর উদ্দাম নাচের শব্দ। বিরক্ত আয়ান কয়েকবার দেয়ালে শব্দ করেও কোনো লাভ না হওয়ায় অবশেষে দরজায় কড়া নাড়ে। দরজা খোলে বিন্দু, এক হাতে রঙের তুলি, চুলে আর গালে রঙের ছোপ, চোখে রাজ্যের বিস্ময়। আয়ান কিছু বলতে যাওয়ার আগেই বিন্দু তার দিকে তাকিয়ে বলে, "আপনার কি রঙ লাগবে? আমার কাছে বার্ন্ট সিয়েনা আর কোবাল্ট ব্লু-এর একটা দারুণ শেড আছে!"

আয়ান তার কথা শুনে হতবাক হয়ে যায়। সে নিজেকে সামলে নিয়ে বলে, "দেখুন, রাত বাজে বারোটা। আপনার গানের শব্দে আমার কাজে সমস্যা হচ্ছে।" বিন্দু এমনভাবে তার দিকে তাকায় যেন সে ভিনগ্রহের কোনো প্রাণী দেখছে। সে শান্তভাবে উত্তর দেয়, "আমি তো ছবি আঁকছিলাম। আর ছবি তো সুর ছাড়া জমে না, তাই না?" এই অদ্ভুত যুক্তি শুনে আয়ানের মাথা ধরে যায়। সে বুঝতে পারে, তার শান্তশিষ্ট জীবনযাপনে এক বিশাল ঘূর্ণিঝড়ের আগমন ঘটেছে। এভাবেই শুরু হয় তাদের দেয়ালের এপার-ওপার থেকে এক অদ্ভুতুরে সম্পর্কের সূচনা, যেখানে একজন চায় নিস্তব্ধতা আর অন্যজন সেই নিস্তব্ধতাকে ভেঙেচুরে রাঙিয়ে দিতে চায়।

দ্বিতীয় পর্ব: অম্ল-মধুর দ্বন্দ্ব ও বন্ধুত্বের প্রথম ছোঁয়া

এরপর থেকে আয়ান আর বিন্দুর মধ্যে ছোটখাটো যুদ্ধ লেগেই থাকত। কখনও বিন্দুর দরজার সামনে রাখা আবর্জনার ব্যাগ নিয়ে আয়ানের অভিযোগ, তো কখনও আয়ানের গাড়ির পার্কিং নিয়ে বিন্দুর মিষ্টি বকা। বিন্দু আয়ানের দরজার সামনে এসে জোরে জোরে ফোনে কথা বলত, আবার আয়ান তার ইন্টারনেট কানেকশনের পাসওয়ার্ড বদলে দিত। তাদের এই ছোট ছোট ঝগড়াগুলো অ্যাপার্টমেন্টের অন্যান্য বাসিন্দাদের জন্য বিনোদনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই ঝগড়ার আড়ালেই কোথাও একটা অদৃশ্য সুতো তাদের বাঁধতে শুরু করেছিল।

একদিন বিন্দু তার ফ্ল্যাটের দেয়ালে একটি বিশাল ম্যুরাল আঁকতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যায় এবং পায়ে প্রচণ্ড আঘাত পায়। যন্ত্রণায় ছটফট করলেও সে কাউকে ডাকার মতো অবস্থায় ছিল না। এমন সময় আয়ান তার ফ্ল্যাট থেকে গোঙানির শব্দ পেয়ে ছুটে আসে। দরজা খোলা থাকায় সে ভেতরে ঢুকে বিন্দুকে ওই অবস্থায় দেখে বিচলিত হয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে সে তার সমস্ত রাগ ভুলে গিয়ে বিন্দুকে उठाकर হাসপাতালে নিয়ে যায়। ডাক্তারের কাছে জানতে পারে, বিন্দুর পায়ের গোড়ালি মচকে গেছে এবং তাকে কয়েক সপ্তাহ পুরোপুরি বিশ্রামে থাকতে হবে। সেই দিন থেকে আয়ান এক ভিন্ন মানুষে পরিণত হয়। সে প্রতিদিন সকালে বিন্দুর জন্য নাস্তা তৈরি করে দিত, তার প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র এনে দিত এবং তার একাকীত্ব কাটানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা তার সাথে গল্প করত। বিন্দুর আঁকা ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে আয়ান প্রথমবার বুঝতে পারে, এই এলোমেলো মেয়েটির ভেতরে কত গভীর এক শিল্পীর বাস। বিন্দুও আবিষ্কার করে, এই কঠোর, নিয়মনিষ্ঠ মানুষটার ভেতরে এক যত্নশীল ও নরম মনের হৃদয় লুকিয়ে আছে।

তৃতীয় পর্ব: অনুভূতির রঙবদল ও এক অপ্রত্যাশিত ঝড়

একসাথে সময় কাটাতে গিয়ে আয়ান ও বিন্দু একে অপরের প্রতি দুর্বল হতে শুরু করে। আয়ান তার আর্কিটেকচারাল ডিজাইনে বিন্দুর রঙের ভাবনা মেশাতে শুরু করে, আর বিন্দু তার ক্যানভাসে আয়ানের মতো করে Strukturen নিয়ে ভাবতে শেখে। তাদের জগৎগুলো যেন একটু একটু করে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছিল। একদিন বৃষ্টিভেজা বিকেলে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে কফি খেতে খেতে আয়ান ইতস্তত করে বিন্দুকে বলে, "তোমার মতো এলোমেলো আর পাগল না হলে হয়তো আমার জীবনটা সাদাকালোই থেকে যেত।" বিন্দু মুচকি হেসে উত্তর দেয়, "আর আপনার মতো কাঠখোট্টা কেউ না থাকলে আমার রঙেরাও হয়তো উড়তে শিখত না।" তাদের দুজনের চোখেই ছিল না বলা অনেক কথা।

কিন্তু তাদের এই সুন্দর হয়ে ওঠা সম্পর্কে কালো মেঘ ঘনিয়ে আসে যখন আয়ানের প্রাক্তন প্রেমিকা ‘শায়লা’ বিদেশ থেকে ফিরে আসে। শায়লা ছিল অত্যন্ত বাস্তববাদী এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী। সে আয়ানের জীবনে আবার ফিরে আসার জন্য সবরকম চেষ্টা শুরু করে। সে বিন্দুকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে, বিন্দুর মতো সাধারণ ও ভবঘুরে মেয়ের সাথে আয়ানের মতো প্রতিষ্ঠিত আর্কিটেক্টের সম্পর্ক কখনোই টিকতে পারে না। একদিন শায়লা এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যেখানে বিন্দুর মনে হয় যে, আয়ান এখনও শায়লাকেই ভালোবাসে। একটি আর্ট এক্সিবিশনে শায়লা সবার সামনে আয়ানকে জড়িয়ে ধরে এবং এমন কিছু কথা বলে যা শুনে বিন্দু ভেঙে পড়ে। তার বিশ্বাস হতে থাকে যে, আয়ানের জীবনে তার কোনো স্থান নেই।

চতুর্থ পর্ব: সত্যের উন্মোচন ও ভাঙা বিশ্বাসের পুনর্গঠন

নাটকের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি ছিল এখানেই। বিন্দু কাউকে কিছু না বলে चुपचाप ফ্ল্যাট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে তার সমস্ত জিনিসপত্র গুছিয়ে একটা চিঠি লিখে আয়ানের দরজার নিচে রেখে দেয়, যেখানে লেখা ছিল, "কিছু আকাশ একসাথে মেলেনা। তুমি তোমার গোছানো পৃথিবীতে ভালো থেকো। ইতি, তোমার এলোমেলো প্রতিবেশী।" চিঠিটা রেখে সে যখন বেরিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই আয়ান সেখানে পৌঁছায়। সে শায়লার আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে সবকিছু জেনে গিয়েছিল এবং বিন্দুকে থামানোর জন্য ছুটে এসেছিল।

আয়ান বিন্দুর হাত ধরে তাকে আটকায়। আয়ান: (কাঁপা গলায়) "কোথায় যাচ্ছ তুমি? একবার আমার কথাটা শুনবে না?" বিন্দু: (চোখের জল মুছে) "কী শোনার বাকি আছে আর? আমি তো সবই নিজের চোখে দেখেছি।" আয়ান তখন বিন্দুকে জানায় যে, শায়লা যা কিছু করেছে তা ছিল একটি পরিকল্পিত নাটক। সে তার ফোনের একটি রেকর্ডিং শোনায় যেখানে শায়লা তার বন্ধুকে সব পরিকল্পনার কথা বলছিল। রেকর্ডিং শুনে বিন্দুর পায়ের নিচের মাটি সরে যায়। সে বুঝতে পারে, সে আয়ানকে কত বড় ভুল বুঝেছে। নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে সে আয়ানের বুকে মাথা রেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে। আয়ান তাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে বলে, "আমার পৃথিবীটা গোছানো ছিল, কিন্তু তাতে কোনো রঙ ছিল না, বিন্দু। তুমি এসে সেই পৃথিবীকে রাঙিয়ে দিয়েছ। এখন তুমি চলে গেলে আমি আবার বর্ণহীন হয়ে যাব।"

শেষ পর্ব: ভালোবাসার নীল নকশা ও এক নতুন শুরু

এরপর সমস্ত ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে। আয়ান ও বিন্দু একসাথে তাদের নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখে। নাটকের শেষে দেখা যায়, আয়ান তার নতুন একটি প্রজেক্টের থ্রিডি মডেল বানাচ্ছে, আর বিন্দু সেই মডেলে ছোট ছোট করে রঙ করে দিচ্ছে। আয়ান বিন্দুর জন্য একটি আর্ট গ্যালারি ডিজাইন করে, যা ছিল তার পক্ষ থেকে বিন্দুকে দেওয়া সবচেয়ে বড় উপহার। তারা বুঝতে পারে, ভালোবাসা মানে শুধু একে অপরের মতো হওয়া নয়, বরং একে অপরের ভিন্নতাকে আপন করে নিয়ে একসাথে পথ চলা। যে সম্পর্কটা শুরু হয়েছিল দেয়ালের দুপাশ থেকে বিরক্তি আর ঝগড়া দিয়ে, সেই সম্পর্কটাই শেষে একে অপরের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে। আয়ান বিন্দুকে চিরদিনের জন্য তার জীবনের ক্যানভাসে এঁকে নেয় এবং ফিসফিস করে বলে, "আমার জীবনে আর কিছু চাই না, শুধু তুমি ভালো থেকো, বিন্দু।" তাদের এই নির্মল ভালোবাসার গল্প दर्शकों মনে একরাশ ভালো লাগা নিয়ে শেষ হয়।

আয়ান ও বিন্দুর এই টক ঝাল মিষ্টি প্রেমের গল্পটি আপনার কেমন লাগলো? আপনি কি মনে করেন যে বিপরীত স্বভাবের দুজন মানুষের মধ্যেই সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা তৈরি হয়? আপনার মূল্যবান মতামত নিচের কমেন্ট বক্সে আমাদের সাথে শেয়ার করুন। আপনার প্রতিটি মন্তব্যই আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা!

ডিসক্লেমার: এই গল্পটি নাটকের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে একটি কল্পিত রচনা। থাম্বনেইলটি শুধুমাত্র তথ্য পরিবেশনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.