Je Batha Ontore | যে ব্যথা অন্তরে | Arosh Khan | Tasnuva Tisha | New Bangla Natok 2024

Je Batha Ontore | যে ব্যথা অন্তরে | Arosh Khan | Tasnuva Tisha | New Bangla Natok 2024

Je Batha Ontore | Arosh Khan | Tasnuva Tisha যে ব্যথা অন্তরে | New Bangla Natok 2024

ভূমিকা: হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক নীরব আর্তনাদ

ভালোবাসা মানে কি শুধু পাওয়া? নাকি না পাওয়ার তীব্র যন্ত্রণার মাঝেও প্রিয় মানুষটির সুখী হওয়ার স্বপ্ন দেখা? কিছু প্রেম कहानीতে পরিনত হয়, আবার কিছু প্রেম রয়ে যায় হৃদয়ের গভীরে এক দীর্ঘশ্বাস হয়ে। "যে ব্যথা অন্তরে" নাটকটি এমনই এক জটিল মনস্তাত্ত্বিক প্রেমের গল্প, যা দর্শকদের নিয়ে যাবে মানব সম্পর্কের এক গভীর সমুদ্রে। আরশ খান এবং তাসনুভা তিশা অভিনীত এই নাটকটি দুটি মনের অব্যক্ত যন্ত্রণা, আত্মত্যাগ এবং ভালোবাসার এক ভিন্ন রূপকে তুলে ধরেছে, যেখানে নিয়তি বার বার দুটি মানুষকে কাছে এনেও দূরে সরিয়ে দেয়। এই গল্পটি আপনাকে হাসাবে, কাঁদাবে এবং শেষ পর্যন্ত এক গভীর ভাবনার জগতে ডুবিয়ে দেবে।

প্রথম পর্ব: এক অসমাপ্ত বিদায় এবং সন্দেহের চোরাটান

গল্পের নায়ক আকাশ (আরশ খান) এবং নায়িকা মেঘলা (তাসনুভা তিশা) একে অপরকে গভীরভাবে ভালোবাসে। তাদের সম্পর্কটা ছিল খোলা আকাশের মতোই স্বচ্ছ আর নদীর স্রোতের মতো প্রাণবন্ত। কিন্তু তাদের এই সুন্দর ভালোবাসার মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় মেঘলার পরিবার। মেঘলার বাবা একজন প্রভাবশালী এবং কঠোর মনের মানুষ, যিনি আকাশের সাধারণ সামাজিক অবস্থানকে মেনে নিতে পারেননি। তিনি আকাশের সাথে মেঘলার সম্পর্কটা কিছুতেই গ্রহণ করুন করতে চান না। অন্যদিকে, আকাশ তার ভালোবাসাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করে চলেছে। সে মেঘলাকে প্রতিশ্রুতি দেয়, খুব শীঘ্রই সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে মেঘলার বাবার সামনে দাঁড়ানোর যোগ্যতা অর্জন করবে। তাদের মধ্যে পরিকল্পনা হয়, তারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করবে।

নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট সময়ে আকাশ রেল স্টেশনে মেঘলার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু মেঘলা আসে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও মেঘলার দেখা না পেয়ে আকাশ দিশেহারা হয়ে পড়ে। সে ভাবে, হয়তো মেঘলা তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, অথবা তার পরিবারের চাপে সে পিছু হটেছে। আকাশের মন জুড়ে তৈরি হয় একরাশ অভিমান আর তীব্র কষ্ট। সে জানে না, সেদিন মেঘলা স্টেশনে আসার পথেই তার বাবার পাতা ফাঁদে পা দিয়েছিল। মেঘলার বাবা তাকে একপ্রকার জোর করে সেখান থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় এবং তাকে বাড়ি বন্দি করে রাখে। মেঘলার ফোন কেড়ে নেওয়া হয়, বাইরের জগতের সাথে তার সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুটি মানুষ, দুটি ভিন্ন জায়গায়, একই রকম যন্ত্রণা নিয়ে পুড়তে থাকে; একজন অভিমান নিয়ে, অন্যজন নিরুপায় হয়ে।

দ্বিতীয় পর্ব: নিয়তির পরিহাস এবং এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা

ঘটনার পাঁচ বছর পর। আকাশ এখন একজন সফল আর্কিটেক্ট। নিজের চেষ্টায় সে আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু তার মনের গভীরে মেঘলাকে হারানোর যন্ত্রণাটা আজও দগদগে ঘায়ের মতো রয়ে গেছে। সে আজও বিশ্বাস করে, মেঘলা তাকে ঠকিয়েছে। এই পাঁচ বছরে সে নিজেকে এক কঠিন খোলসের মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলেছে। তার জীবনে এখন ভালোবাসার কোনো স্থান নেই, আছে শুধু কাজ আর কাজ। অন্যদিকে, মেঘলা তার বাবার পছন্দের পাত্রের সাথে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছে। তার স্বামী একজন ভালো মানুষ হলেও, মেঘলার হৃদয়ের শূন্যতাটা সে পূরণ করতে পারেনি। মেঘলা আজও আকাশের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছে।

नियতির খেলা বোঝা বড় দায়। অফিসের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টের सिलसिले আকাশের ক্লায়েন্ট হিসেবে আসে মেঘলার স্বামী। প্রজেক্টের আলোচনা করার জন্য আকাশকে তাদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বাড়িতে ঢোকার মুহূর্তে দরজায় মেঘলাকে দেখে আকাশের পায়ের নিচের মাটি সরে যায়। দুজনের চোখাচোখি হয়, কিন্তু কেউ কোনো কথা বলতে পারে না। তাদের দুজনের ভেতরকার ঝড়টা বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় ছিল না। মেঘলার স্বামী আকাশকে তার স্ত্রী হিসেবে মেঘলার পরিচয় করিয়ে দিলে, আকাশ কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে পেশাগত আচরণ বজায় রাখে। মেঘলা পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। যে মানুষটাকে সে একদিন ঠকিয়েছে বলে আকাশ ভাবে, সে আজ তার স্বামীর ব্যবসার অংশীদার। পরিস্থিতি এমন এক জটিল মোড় নেয়, যা দুজনের জীবনকেই আবার ওলট পালট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।

তৃতীয় পর্ব: অতীতের মুখোমুখি এবং ভুলের আত্মসমর্পণ

একসাথে কাজ করার সুবাদে আকাশ আর মেঘলার প্রায়ই দেখা হতে থাকে। মেঘলার স্বামী আকাশের কাজে এতটাই মুগ্ধ হয় যে, সে আকাশকে তাদের পারিবারিক বন্ধু বানিয়ে ফেলে। আকাশের ভেতরের অভিমানের আগুনটা ধিকিধিকি করে জ্বলতে থাকে। সে মেঘলাকে তার সুখী জীবনযাত্রার জন্য কটাক্ষ করতে ছাড়ত না। সে ভাবত, মেঘলা টাকার কাছে নিজের ভালোবাসাকে বিক্রি করে দিয়েছে। একদিন এক পার্টিতে মেঘলার স্বামী আকাশের প্রশংসা করতে গিয়ে বলে, "আকাশ, তুমি শুধু একজন ভালো আর্কিটেক্ট নও, একজন অসাধারণ মনের মানুষও। মেঘলাও তোমার কাজের খুব প্রশংসা করে।" কথাটি শুনে আকাশের ভেতরটা আরো জ্বলে ওঠে।

পার্টির এক কোণে মেঘলাকে একা পেয়ে আকাশ অবশেষে তার ভেতরের সমস্ত ক্ষোভ উগরে দেয়। আকাশ: "খুব সুখী তাই না তুমি? আমাকে ঠকিয়ে, আমার ভালোবাসাকে অপমান করে আজ তুমি সমাজের উঁচু স্তরে পৌঁছে গেছ। কীসের অভাব ছিল তোমার? শুধু টাকা?" আকাশের কথায় মেঘলার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং পাঁচ বছর আগের সেই রাতের সত্যিটা আকাশকে জানায়। সে বলে, কীভাবে তার বাবা তাকে সেদিন জোর করে আটকে রেখেছিল, কীভাবে তার জীবনটা একটা খাঁচার পাখির মতো হয়ে গিয়েছিল। সব শুনে আকাশ স্তব্ধ হয়ে যায়। সে বুঝতে পারে, যে অভিমানটা সে এতদিন ধরে পুষে রেখেছিল, তা আসলে একটা বিশাল ভুলের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। সে মেঘলার কাছে ক্ষমা চায়, কিন্তু সে জানে, এই ভুলের কোনো ক্ষমা হয় না।

চতুর্থ পর্ব: আত্মত্যাগের পরীক্ষা এবং এক কঠিন সিদ্ধান্ত

সত্যিটা জানার পর আকাশ এক গভীর অপরাধবোধে ভুগতে থাকে। সে মেঘলার জীবন থেকে নীরবে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মেঘলা তাকে আটকায়। মেঘলা তাকে বোঝায় যে, যা হয়ে গেছে, তা আর বদলানো সম্ভব নয়, কিন্তু তারা অন্তত বন্ধু হিসেবে থাকতে পারে। তাদের এই নতুন বন্ধুত্ব মেঘলার স্বামীর মনে কোনো সন্দেহের জন্ম দেয় না, কারণ সে আকাশকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে। কিন্তু মেঘলার ভেতরের ভালোবাসাটা আবার নতুন করে জেগে ওঠে। সে আকাশের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করে, তার মনে হতে থাকে, হয়তো নিয়তি তাদের আরেকবার সুযোগ দিয়েছে।

নাটকের সবচেয়ে মর্মস্পর্শী মুহূর্তটি আসে তখন, যখন মেঘলা আকাশকে বলে, সে তার স্বামীকে সবকিছু জানিয়ে দিয়ে আকাশের কাছে ফিরে আসতে চায়। সে বলে, "আমি আর এই মিথ্যার জীবনটা বয়ে বেড়াতে পারছি না, আকাশ। আমি তোমার কাছে ফিরতে চাই।" আকাশ এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়। একদিকে তার ভালোবাসা, যা সে বহু বছর পর ফিরে পেয়েছে, আর অন্যদিকে তার বন্ধুর বিশ্বাস, যে তাকে নিজের ভাইয়ের মতো সম্মান দিয়েছে। আকাশ জানে, সে যদি মেঘলাকে গ্রহণ করে, তাহলে সে তার বন্ধুর সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করবে। আকাশ মেঘলার হাত ধরে বলে: "যে ব্যথাটা আমরা অন্তরে বয়ে বেড়াচ্ছি, সেটা শুধু আমাদেরই থাক, মেঘলা। আমি এমন কোনো সুখ চাই না, যা আরেকজন নিরপরাধ মানুষের চোখের জলের ওপর তৈরি হবে। তোমার স্বামী একজন ভালো মানুষ। তার কোনো দোষ নেই। আমাদের ভালোবাসাটা নাহয় আমাদের ভেতরের ব্যথা হয়েই বেঁচে থাকুক।"

শেষ পর্ব: ভালোবাসার ভিন্ন परिभाषा এবং বেদনার জয়

আকাশ তার প্রজেক্ট শেষ করে এবং মেঘলার জীবন থেকে চিরদিনের জন্য দূরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে মেঘলার স্বামীকে জানায়, তার নতুন একটি কাজের জন্য তাকে বিদেশে চলে যেতে হচ্ছে। যাওয়ার আগে সে শেষবারের মতো মেঘলার সাথে দেখা করে। দুজনের চোখেই জল, কিন্তু মুখে কোনো ভাষা নেই। আকাশ শুধু বলে, "ভালো থেকো।" এই ছোট্ট একটা বাক্যর মধ্যে লুকিয়ে ছিল তাদের দুজনের সম্পূর্ণ জীবনের হাহাকার। নাটকের শেষে দেখা যায়, বেশ কয়েক বছর পর, মেঘলা তার সংসার নিয়ে সুখী। তার একটি সন্তানও হয়েছে। কিন্তু মাঝে মাঝে একলা দুপুরে বা কোনো বৃষ্টির সন্ধ্যায়, তার মনে পড়ে যায় আকাশের কথা, আর তার বুকের ভেতরটা এক অব্যক্ত ব্যথায় চিনচিন করে ওঠে। অন্যদিকে, আকাশ দূর কোনো দেশে একা জীবন কাটায়, তার সঙ্গী শুধু মেঘলার স্মৃতি আর অন্তরে বয়ে বেড়ানো সেই তীব্র ব্যথা। ভালোবাসা মানে যে শুধু একসাথে ঘর বাঁধা নয়, ভালোবাসা মানে প্রিয় মানুষটির মঙ্গলের জন্য নিজেকে নিঃশেষ করে দেওয়া। তাদের ভালোবাসাটা হয়তো সামাজিক স্বীকৃতি পায়নি, কিন্তু তাদের অন্তরের ব্যথাটা তাদের প্রেমকে এক ভিন্ন উচ্চতায় অমর করে দিয়ে গেছে।

আকাশ এবং মেঘলার এই আত্মত্যাগের গল্পটি আপনার হৃদয়কে কতটা স্পর্শ করেছে? আপনি কি আকাশের সিদ্ধান্তে একমত? ভালোবাসা এবং নৈতিকতার এই কঠিন লড়াই নিয়ে আপনার মূল্যবান মতামত নিচের কমেন্ট বক্সে আমাদের সাথে শেয়ার করুন।

ডিসক্লেমার: এই গল্পটি নাটকের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে একটি কল্পিত রচনা। থাম্বনেইলটি শুধুমাত্র তথ্য পরিবেশনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.